কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : কসবা উপজেলার ৪ নং খাড়েরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কেয়াইর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন  


“ভারত আমাদের দেশ পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করুক—তা আমরা কখনোই হতে দেব না।”

শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি সংগঠন, যেখানে সুশৃঙ্খল ও অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন লোকজন রয়েছে, যারা দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের দেশ পরিচালনা করবো জনগণের চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে। অন্য কোনো দেশ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করবে—এটা আমরা মেনে নেব না।”

ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে দাবি করে আতাউর রহমান সরকার বলেন, “একইভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ফেলানিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান জামায়াতে ইসলামী এবং ১৯৭১ সালের জামায়াতে ইসলামী এক নয়।
কসবা–আখাউড়া জনপদকে একটি উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করতে প্রয়োজনীয় সকল সংস্কার করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলবো, যা হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে।”

সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা ছাত্রশিবির নেতা ও কসবা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার। তিনি বলেন, “বিরোধী দলের লোকেরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”তিনি আরও বলেন, “একটি দলের প্রধান আমাদের গুপ্ত বলে আখ্যায়িত করেন, অথচ তারাই দেশের বাইরে লুকিয়ে গুপ্ত ছিল। আমরা দেশের ভেতরে থেকেই সকল প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। আমাদের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেদের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।” তিনি আরো দাবি করেন, ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্ররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতেও জনগণ তাদের একইভাবে প্রত্যাখ্যান করবে, ইনশাআল্লাহ।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কসবা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার, সাবেক কসবা উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আমির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল আরিফসহ ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।