জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ভিশন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের বাজেট–বিষয়ক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করা হয়।
\r\nসংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা চিহ্নিত করা গেলেও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কোনো কৌশল এতে দেখা যায় না। ধনী-গরিবের আয়ের ব্যবধান কমানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। কর ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দিকেও নজর দেওয়া হয়নি, বরং নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপরই করের চাপ থেকে যাচ্ছে।”
\r\nনাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থান কর্মসংস্থানের দাবিতে শুরু হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে বেকারত্ব নিরসনে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। গত এক বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ লাখ। অথচ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বা উদ্যোগের প্রতিফলন বাজেটে অনুপস্থিত।”
\r\nতিনি বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে বড় কোনো নতুনত্ব নেই। শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের দাবি থাকলেও বাজেটে তা ১.৭ শতাংশেই সীমাবদ্ধ। স্বাস্থ্য খাতেও দৃশ্যমান বরাদ্দ বাড়েনি।”
\r\nপ্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অর্ধেকে নামিয়ে আনার সমালোচনা করেন এনসিপি নেতারা। তাঁরা বলেন, “বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না দিয়ে উল্টো বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের অভিবাসননীতি নিয়েই প্রশ্ন তোলে।”
\r\nনাহিদ ইসলাম বলেন, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা প্যাকেজ নেই। অথচ এই খাত থেকেই অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সম্ভাবনা ছিল।”
\r\nকালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা ‘নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী’ মন্তব্য করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “নতুন সরকারের অধীনে পুরোনো অনৈতিক নীতির পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। এই সুযোগ বাতিল করা উচিত।”
\r\nতবে বাজেটে গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসনের জন্য ৪০৫ কোটি টাকা বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়েছে এনসিপি। আহ্বায়ক বলেন, “এই অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয় এবং প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।”
\r\nসংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সরকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু রাঘববোয়ালদের করের আওতায় আনার কোনো কৌশল বাজেটে দেখা যায়নি। বাজেট বাস্তবসম্মত হতে হলে নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে।”
\r\nসংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মুশফিক উস সালেহীনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
\r\nসারসংক্ষেপে এনসিপির মূল্যায়ন: বাজেটে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন, অর্থনৈতিক রূপান্তর ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দিকটি গুরুত্ব পায়নি—এমনটাই মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।





