জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নির্বাচনের আগে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পন্ন করার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন আন্দোলনের পরিচিত মুখ রিফাত রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাসান ইনাম। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম জে এইচ মঞ্জু, জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাশরাফি সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং মুখপাত্র হিসেবে সিনথিয়া জাহীন আয়েশা।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি ও রূপরেখা উপস্থাপন করে। একই সঙ্গে “বাংলাদেশ ২.০” নামে একটি খসড়া ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে থাকছে—গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা, নতুন সংবিধান প্রণয়ন, গণপরিষদ নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, কল্যাণমূলক উন্নয়ননীতি এবং ন্যায্য বৈশ্বিক কূটনীতি।

অনুষ্ঠানে তিনটি বিশেষায়িত কমিটিও ঘোষণা করা হয়: লিঁয়াজো কমিটি, আর্থিক স্বচ্ছতা কমিটি, জুলাই শোক ও স্মৃতি উদ্যাপন কমিটি

নবনির্বাচিত সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই নব্বইয়ের অপমৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। গণ-সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনে এই কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে।”

কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়—জুলাই ঘোষণাপত্র অবিলম্বে প্রণয়ন করতে হবে, নির্বাচনের আগে কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে, বিগত সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করতে হবে, শহীদদের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব আশাবাদী, এই উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে একটি গঠনমূলক ও স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করবে।