বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে আমরা অপমানিত করতে চাই না। বরং তাদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “প্রত্যেক যুবক-যুবতী নিজের বুকের দিকে ইশারা করবে; ‘আমিই বাংলাদেশ, এই দেশ আমার, আমি গড়ব।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, এই দেশ আমাকে যা দেবে, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দেশটিকে দেব।
জামায়াত আমির আরও বলেন, কেউ কেউ মনে করে জামায়াত ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমাদেরও স্ত্রী, সন্তান, বোন আছে; তারা দেশের সেবায় অংশ নেয়। দেশের সব মা-বোনকে দেশের সেবায় নিয়োজিত হতে সহায়তা দেওয়া হবে।”
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের কোনো জেলা সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না। আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশের সেবা করার তৌফিক দেন, ইনশাআল্লাহ ফেনী তা পাবে।”
ফেনীবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “যে বাঁধের কারণে আপনারা দুঃখ ভোগ করছেন, তা এখনও নির্মাণ হয়নি। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব।” তিনি আরও যোগ করেন, ফেনীতে এখনো কোনো মানসম্মত স্টেডিয়াম নেই। ফেনীর অবদান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফেনী স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে নির্মাণ করা হবে।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমি তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন এবং আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। আমরা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই।”
তিনি বলেন, “মিলেমিশে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও মা-বোনদের প্রতি অন্যায় প্রতিরোধ করতে হবে। যুবসমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে যারা অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের হাতে ৩০০ আসনের মার্কা তুলে দেওয়া হয়েছে। এই মার্কা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতীক।”
ডা. শফিকুর রহমান যোগ করেন, “যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভোটে হ্যাঁ দেবেন। হ্যাঁ হলে বাকি ভোটের মূল্যায়ন হবে; না হলে হবে না। হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে গোলামী। দ্বিতীয় ভোট হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে।”





