বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের একদল গবেষক নিরাপত্তাব্যবস্থায় উন্নত একটি নতুন রিকশার নকশা তৈরি করেছেন। এটি হবে বর্তমান ব্যাটারিচালিত রিকশার মতোই খরচসাপেক্ষ, তবে অনেক বেশি নিরাপদ। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, তারা এই নতুন ধরনের রিকশাকে রাস্তায় চলার অনুমতি দেবে এবং ধাপে ধাপে পুরোনো রিকশা সরিয়ে নেওয়া হবে।
\r\nবুয়েটের এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক এ সালাম আকন্দ ও মো. আমান উদ্দীন, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান খান এবং গবেষণা প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান ও আবদুল আজিজ ভূঁইয়া।
\r\nনতুন রিকশার নকশায় নিরাপত্তার জন্য যুক্ত করা হয়েছে ১৬টি বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি চাকায় হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, বিকল্প পার্কিং ব্রেক, সাইড মিরর (লুকিং গ্লাস), ইন্ডিকেটর, ছাউনি, কাচের উইন্ডশিল্ড, উন্নত হেডলাইট ও ডে টাইম রানিং ল্যাম্প (DRL)। ফলে বৃষ্টিতে চালক-যাত্রী ভিজবেন না এবং রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায়ও নিরাপদভাবে চলাচল সম্ভব হবে।
\r\nরিকশাটির দৈর্ঘ্য ৩.২ মিটার, প্রস্থ ১.৫ মিটার এবং উচ্চতা ২.১ মিটার। এটি সহজেই ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত বহন করতে সক্ষম। সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার, তবে শক্তিশালী ব্রেকিং সিস্টেম থাকার কারণে এটি নিরাপদ থাকবে।
\r\nবুয়েটের দলটি জানিয়েছে, রিকশাটির নির্মাণ ব্যয় হতে পারে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাটারির খরচ প্রায় ৫০–৬০ হাজার টাকা এবং বাকিটা কাঠামোর। ব্যাটারি একবার চার্জ দিলে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে এবং দেড় বছর পরপর ব্যাটারি পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। পুরোনো ব্যাটারি রিসাইকেলযোগ্য।
\r\nডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, নতুন রিকশাগুলো চালুর প্রস্তুতি চলছে। চালকদের জন্য লাইসেন্স ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট এলাকাতেই এসব রিকশা চলাচল করতে পারবে এবং ভাড়াও সরকার নির্ধারণ করবে।
\r\nবর্তমানে ঢাকায় দুটি ধরনের রিকশা চলে—প্যাডেলচালিত ও ব্যাটারিচালিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর গতি বেশি হলেও এগুলোর ব্রেকিং ব্যবস্থা দুর্বল এবং চালকদের প্রশিক্ষণ নেই, যা ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন নকশার রিকশাগুলো দিয়ে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





