বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার (এ কে খন্দকার)-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।


শনিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।


শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় সৈনিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তার কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অটল দেশপ্রেম স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছিল।”


তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। দেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি এই বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে অসামান্য অবদান রাখেন।”


প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কে খন্দকার দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার কারণে তিনি পতিত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে ব্যাপক রোষানলের মুখে পড়েন।”


এ কে খন্দকারকে একজন দৃঢ়চেতা মুক্তিযোদ্ধা, সৎ, সাহসী ও আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক হিসেবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “তার কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”


শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে দেশ একজন বীর সন্তানকে হারাল। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”


এ সময় তিনি এ কে খন্দকারের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।