রোববার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর ইন্ডিয়া গেট স্মৃতিস্তম্ভে বিক্ষোভ করেন শহরের মানুষ। বিক্ষোভকারীরা প্রতি বছর এই এলাকায় মারাত্মক দূষণ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


বিক্ষোভে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার দেখা যায় এবং তারা দূষণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায় এবং বাকীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা শুধু শ্বাস নিতে চাই।” মাস্ক পরা নেহা (ছদ্মনাম) বলেন, “আমাদের একটাই সমস্যা, তা হল পরিষ্কার বাতাসের অভাব। বহু বছর ধরে এই সমস্যা চলেছে, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”


সোমবার সকালে শহরের বায়ু দূষণ সূচক ৩৫০ অতিক্রম করেছে, যা ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড অনুযায়ী ‘খুব খারাপ’ হিসাবে বিবেচিত হয়। সূচক ১০০ এর নিচে থাকলে বাতাস ভালো বা সন্তোষজনক বলে ধরা হয়। ৪০০ এর বেশি সূচক ‘গুরুতর’ দূষণ নির্দেশ করে। সোমবার সকালে শহরের কিছু এলাকায় সূচক ৪০০ এরও বেশি পৌঁছায়, ফলে তাপমাত্রা কমে এবং শহর ঘন ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা পড়ে।


বিশ্বব্যাপী ১০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ভারতের ছয়টি এবং শীর্ষ ২০টির মধ্যে ১৩টি শহর রয়েছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী নয়াদিল্লি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর শীতকালে শহরের বাতাসের মান নাটকীয়ভাবে খারাপ হয়ে যায়।


এতে বলা হয়েছে, কাছের রাজ্যগুলোতে কৃষকের ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে তৈরি ধোঁয়া শহরে প্রবেশ করে এবং শীতল তাপমাত্রায় আটকে থাকে। এছাড়া যানবাহন ও শিল্প নির্গমনের সঙ্গে মিশে যাওয়া ধোঁয়া শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।


বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক পোস্টে লিখেছেন, “বিশুদ্ধ বাতাসের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার।” অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ একটি স্তরবদ্ধ জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে, যা নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণ, ডিজেল জেনারেটর নিষিদ্ধ এবং দূষণ তীব্র হলে যানবাহনের প্রবেশ সীমিত করার মতো ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।