শেরপুরে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎহীন। প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় গত ৬ জানুয়ারি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। এরপর থেকে পুরো মসজিদ অন্ধকারে। রমজান মাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।


\r\n

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের রানীগাঁও এলাকায় মসজিদটির উদ্বোধন হয়। একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুজন খাদেম দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের সম্মানী দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হয় স্থানীয় মুসল্লিদের দানের অর্থ থেকে।

\r\n

মসজিদটিতে একাধিক নামাজ কক্ষ, ঝাড়বাতি, শতাধিক লাইট, ফ্যান ও এসি রয়েছে। নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা ও আধুনিক টয়লেট ছাড়াও আছে অটিজম কর্নার, লাইব্রেরি, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজ প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম ও অতিথিশালার ব্যবস্থা। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে বড় অঙ্কে।

\r\n

মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, নির্মাণের পর থেকে কোনো বিল পরিশোধ হয়নি। হস্তান্তরের পর স্থানীয়ভাবে বিল দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বড় পরিসরের মসজিদ এবং এসি-লাইট বেশি থাকায় বিলও বেশি আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বরাদ্দ বা সমাধানের পথ খোঁজার আশ্বাস দেন।

\r\n

নালিতাবাড়ী পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন জানান, এটি এসটি লাইন হওয়ায় ব্যবহার না করলেও মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি ডিমান্ড চার্জ যোগ হয়। বকেয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকায় পৌঁছানোয় সংযোগ কাটা হয়েছে। আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। উপরমহলের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রিপেইড মিটারে নেওয়ার কথা রয়েছে।

\r\n

শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এস এম মোহাই মোনুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকার মাসে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল দেয়, বাকিটা স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করার কথা। কিন্তু এখানে মাসিক বিল ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আসে। রমজান বিবেচনায় আংশিক পরিশোধে সংযোগ চালুর অনুরোধ করা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ রাজি হয়নি।

\r\n

মসজিদের দাতা সদস্য পান্না জানান, শুরু থেকেই কয়েক লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। দেড় মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। রমজানের তারাবি নামাজও পড়তে হচ্ছে অন্ধকারে। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে প্রিপেইড সংযোগ আনার চেষ্টা চলছে।