ফেনীর পরশুরামে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতদের একজনের মরদেহ বাংলাদেশে থাকলেও অপরজনের মরদেহ এখনো ভারতের হেফাজতে রয়েছে।
\r\nঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে, উপজেলার বাসপদুয়া সীমান্ত এলাকায়।
\r\nনিহতরা হলেন—পরশুরাম পৌরসভার বাসপদুয়া গ্রামের মো. ইউসুফ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন মিল্লাত এবং গাছি মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ লিটন (৩২)। আহত আফসার একই এলাকার পেয়ার আহাম্মদের ছেলে।
\r\nস্থানীয় ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে মিল্লাত, লিটন, আফসারসহ চারজন সীমান্তবর্তী বাসপদুয়া এলাকায় যান। সেখানেই ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
\r\nবিজিবি ৪ ব্যাটালিয়নের ফেনীস্থ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোশারফ হোসেন জানান, ওই চারজন সীমান্ত পিলার ২১৬৪/৩-এস অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে মিল্লাত ও লিটন গুলিবিদ্ধ হন এবং আফসার গুরুতর আহত হন।
\r\nগুলিবিদ্ধদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে মিল্লাত মারা যান। অন্যদিকে লিটনের মরদেহ ভারতীয় বিএসএফ নিয়ে যায় এবং বর্তমানে তা ভারতের বিলোনিয়া মহকুমা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
\r\nচিকিৎসক নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান, “রাত আড়াইটার দিকে দুই গুলিবিদ্ধ রোগীকে আনা হয়। এর মধ্যে একজন মৃত ছিলেন এবং অন্যজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
\r\nমিল্লাতের মা পারভিন আক্তার বলেন, “আমার ছেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়েই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”
\r\nপরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, নিহত মিল্লাতের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালে রয়েছে এবং আহত আফসার চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। লিটনের মরদেহ এখনো ভারতের হেফাজতে রয়েছে।
\r\nএই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিজিবি জানায়, এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।





