জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এনসিপিতে যোগ দেওয়া নতুন কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এর স্পষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা নাম ধরে প্রকাশ করব কারা চোর, বাটপার, চাঁদাবাজ এবং হুমকিদাতা। এরপর প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে অপকর্মকারীদের তালিকা পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানাসহ ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”


\r\n

শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মশালা ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি।


\r\n

সারজিস আলম বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার বিএনপি-সমর্থিত এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে এনসিপির এক সমন্বয়কারীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি একে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য “অত্যন্ত ভয়ংকর দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যোগ করেন, “এই বাংলাদেশে আর কাউকে শেখ হাসিনা হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”


\r\n

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্কুল-কলেজে অ্যাডহক কমিটির নামে বিএনপি-সমর্থিত অযোগ্য ব্যক্তিদের সভাপতি বানানোর চেষ্টা চলছে, যা পরিবেশকে নষ্ট করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলায় রাতের অন্ধকারে অবৈধ ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন হচ্ছে।


\r\n

তেঁতুলিয়া উপজেলায় বিএনপির কয়েকজন নেতা কোথায় কোথায় চাঁদা নিচ্ছেন, স্থলবন্দর থেকে নাকি ড্রেজিং মেশিন থেকে—এসব তথ্য তাদের হাতে আছে বলেও উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, “আপনাদের সব অপকর্মের বায়োডাটা আমরা শিগগিরই দেশের মানুষ ও মিডিয়ার সামনে তুলে ধরব। পুরো জেলাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে অল্প কয়েকজনের পকেট ভরানো এই দেশে আর চলবে না। যা মানুষের ক্ষতি করে, সেটা ক্ষতিই, আর সেটি আমরা আর হতে দেব না।”


\r\n

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলার এনসিপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।