জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট-২ আসনে সাবেক সচিব ও সাবেক ডিসি আব্দুল বারীর বিএনপির দেওয়া মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার কর্মী ও সমর্থকরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী বাজারে এবং গত মঙ্গলবার গোপীনাথপুর বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন-‘ডিসি বারীর মনোনয়ন মানি না, মানব না’,‘আমলার মনোনয়ন মানি না, মানব না’,‘অতিথি পাখির মনোনয়ন মানি না, মানব না’,‘মোস্তফা ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। এর আগে সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়পুরহাট-২ আসনে সাবেক সচিব ও ঢাকা জেলার সাবেক ডিসি আব্দুল বারীর নাম ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গোলাম মোস্তফার কর্মী ও সমর্থকরা বারীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ বকুল, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির রানা, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মতু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, সাবেক সহসভাপতি আবুল খায়ের, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শরিফ মেম্বারসহ ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী। এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির জন্য মাঠে থেকে কাজ করা পরীক্ষিত নেতা গোলাম মোস্তফাকে বঞ্চিত করে অরাজনৈতিক ও বহিরাগত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে আসনটি ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই অতি দ্রুত বারীর মনোনয়ন বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ বকুল বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাসহ আমরা বিগত আওয়ামী শাসনামলে বহু অত্যাচার সহ্য করে রাজপথে টিকে ছিলাম। পক্ষান্তরে আব্দুল বারীকে এলাকায় কখনো দেখা যায়নি। হঠাৎ অতিথি পাখির মতো এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে মনোনয়ন নিয়েছেন। অবিলম্বে তার মনোনয়ন বাতিল হোক।” রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মতু বলেন, “চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—দুর্দিনের নির্যাতিত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফাকে পুনরায় মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমে আসনটি যথাযোগ্য নেতার হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।” এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুল বারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিক্ষোভ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও যদি কেউ এ ধরনের কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।” মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সচিব আব্দুল বারী মিরর নিউজকে বলেন, “সেখানে এমন কোনো বিক্ষোভ মিছিল হয়নি। পাঁচ-দশজন মিলে হঠাৎ করে ছবি তুলে ফেসবুকে দিলেই তা গুরুত্ব পায় না। দল অনেক বিষয় বিবেচনা করে যিনি জনগণের সমর্থন বহন করেন তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। এসব কারা করছে, দল তা খুঁজে বের করবে। মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি দলের নেতৃবৃন্দসহ গোলাম মোস্তফার বাসায় গিয়ে দেখা করেছি। সবাই একতাবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করব মর্মে আলোচনা হয়েছে।” শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আব্দুল বারী মনোনয়ন পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংবাদ লোড হচ্ছে...





