পটুয়াখালীর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি অভিযান চালানোর ঘটনায় এ অভিযোগ করা হয়।


\r\n

বিশেষ করে ছাত্রদল নেতার উপস্থিতিতে জামায়াতের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

\r\n

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাউফল উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তাকে বহাল রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। তিনি ওসি ছিদ্দিকুর রহমানকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

\r\n

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অভিযান চালানোর আগে পুলিশকে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে অন্য একটি দলের প্ররোচনায় জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন কীভাবে এবং অভিযানের আগাম খবর তারা জানলেন কীভাবে। অভিযানের আগে কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতি নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

\r\n

তিনি আরও বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোনো অবৈধ কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। এতে প্রমাণ হয়, এই অভিযান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ওই ওসির পক্ষে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

\r\n

এ ঘটনায় বাউফল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান জেলা রিটার্নিং অফিসার ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে ওসি ছিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

\r\n

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাউফল থানার ওসি বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করার পর তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ও হুমকির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করা এবং একাধিক হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

\r\n

আবেদনে আরও বলা হয়, ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

\r\n

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন করে অভিযান চালানো হয়নি। তিনি জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোনকলের ভিত্তিতে জামায়াত কার্যালয়ের সামনে একটি ভবনে অবৈধ অস্ত্র মজুতের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযোগ যাচাই করতেই পুলিশ অভিযান চালায়।

\r\n

তিনি বলেন, অভিযানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ছাত্রদল নেতারা কীভাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার ঘটনায় কলদাতার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।