মুশফিকুর রহিমকে ডাবল সেঞ্চুরি করতে দেয়নি শ্রীলঙ্কা, গল টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশও আজ ‘বদলা’ নিয়েছে লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কাকে ডাবল সেঞ্চুরি করতে না দিয়ে। শেষ বিকেলে নতুন বলে হাসান মাহমুদের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে ১৮৭ রানে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন নিশাঙ্কা। বাংলাদেশের তৃতীয় দিনে প্রাপ্তি বলতে এ-ই যা! যা পায়নি বাংলাদেশ, সেটা শ্রীলঙ্কাকেও করতে দেয়নি!
এই ‘প্রাপ্তি’টুকু বাদ দিলে পুরো দিনে তাইজুল ইসলাম-নাহিদ রানারা শুধু খেটেই গেছেন। দিন শেষে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের রান টপকাতে না পারলেও ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান তুলে শক্ত অবস্থানে আছে। বাংলাদেশ থেকে আর ১২৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
গতকাল শেষ বিকেলের ধসের পর বাংলাদেশ আজ দিনটা শুরু করেছিল হাতে ১ উইকেট নিয়ে। নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদ ক্রিজে টিকেছেন ১৫ মিনিটের মতো। ৫০০ রান না হলেও আর ১১ রান যোগ করে দলীয় স্কোর ৪৯৫ রানে নিয়েছে হাসান মাহমুদ-নাহিদ জুটি।
এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে স্বাগতিকরা আধিপত্য বিস্তার করে দিনের বাকি সময়। ইনিংসের শুরুতে অবশ্য কোনো রান করার আগেই লঙ্কানরা ৩০ বছরের এক রেকর্ড ভেঙেছে। গল টেস্টে অভিষিক্ত লাহিরু উদারার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমেছেন নিশাঙ্কা, দুজনই ডানহাতি। তিন দশক পর শ্রীলঙ্কার কোনো টেস্টে ওপেনিংয়ে দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে দেখা গেল!
এর আগে টেস্ট ১৯৯৫ সালে শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেবার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ‘বক্সিং ডে’ টেস্টে শ্রীলঙ্কার হয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন রোশান মহানামা ও – বাংলাদেশের সাবেক কোচ - চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। এরপর ২৬০ টেস্টে ৪৭৯ ইনিংসে ৫৫টি ভিন্ন উদ্বোধনী জুটি ব্যবহার করেছে শ্রীলঙ্কা, এর সবগুলোতেই অন্তত একজন বাঁহাতি ছিল!
রেকর্ড গড়া জুটির অংশ হলেও অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি উদারা। তাইজুল ইসলামের স্পিনে অন সাইডে শট খেলতে গিয়ে তাঁর হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন উদারা। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৩৪ বলে ২৯ রান করেন এই ওপেনার।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশকে রীতিমতো ভুগিয়েছেন দীনেশ চান্ডিমাল ও নিশাঙ্কা। এ দুই ব্যাটসম্যান মিলে আগ্রাসী মেজাজে রান তুলতে থাকেন। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২৭ ওভারে ১ উইকেটে ১০০ রান তুলে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নেমেই চান্ডিমাল-নিশাঙ্কা দুজনেই নিজেদের ফিফটির দেখা পেয়ে যান। আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা নিশাঙ্কা ১৩৬ বলে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির দেখাও পেয়ে যান এই সেশনে।
দলীয় দুই শ রানও পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। চান্ডিমাল-নিশাঙ্কা যখন স্কোরটা আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কাকে, তখনই চা বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন স্পিনার নাঈম হাসান। এই ডানহাতি স্পিনারের করা ৫২তম ওভারের পঞ্চম বলে লেগ স্লিপে সাদমানকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন চান্ডিমাল। ১১৯ বলে ৫৪ রান করে চান্ডিমালের বিদায়ে ভাঙে লঙ্কানদের দ্বিতীয় উইকেটে ২৩৮ বলে ১৫৭ রানের জুটি।
তৃতীয় উইকেটে ক্রিজে অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউজ নামতেই গ্যালারি থাকা দর্শকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে থাকা ম্যাথিউজ চা বিরতির আগে দেখেশুনেই খেলেছেন। দ্বিতীয় সেশন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে ৬০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৩৩ রান।
দিনের শেষ সেশনে খেলতে নেমেই ক্যারিয়ারের প্রথম দেড় শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন নিশাঙ্কা। তবে অন্য প্রান্তে থাকা ম্যাথিউজ আচমকা পার্ট টাইম স্পিনার মুমিনুল হকের স্পিনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৩৯ রানে। দলীয় তিন শ রান পার হওয়ার আগেই তৃতীয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা।
ম্যাথিউজ ফিরে গেলেও ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নিশাঙ্কা। আজই সেটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল প্রবল। কিন্তু দিনের খেলার যখন বাকি ছিল আর ৮ ওভার, তখন হিসেব পাল্টে গেল। নতুন বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক শান্ত। নতুন বল হাতে পেয়েই হাসান মাহমুদ লঙ্কানদের আক্ষেপে ভাসান। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থাকা নিশাঙ্কা পরাস্ত হন হাসানের ইন সুইং ডেলিভারির কাছে। ডানহাতি এই ওপেনারের ব্যাট প্যাডের ফাঁকে দিয়ে হাসানের বল স্টাম্পে গিয়ে লাগে।
২৫৬ বলে ১৮৭ রান করে হতাশা নিয়ে ফেরেন নিশাঙ্কা। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে কামিন্দু মেন্ডিস অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন। শেষ দিকে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা।
দলীয় ৩৬৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে লঙ্কানরা, হাতে আছে ৬ উইকেট। ক্রিজে ৩৭ রান করে আছেন কামিন্দু মেন্ডিস ও ১৭ রানে খেলছেন ধনাঞ্জয়া।





