মাইন উদ্দিন
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়া–৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় বিপুল অঙ্কের ঋণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে তার স্ত্রীর নামে শত শত কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য উল্লেখ না করায় প্রার্থীর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ে ব্যাপক গণসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও তার দাখিল করা হলফনামার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। হলফনামায় তিনি নিজের নামে ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে মাত্র ৪ লাখ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে, প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১০৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাব এক্সপ্রেস বিডি লিমিটেড–এর নামে প্রায় ২৬ কোটি টাকা, ওয়ানটেল কমিউনিকেশন লিমিটেড–এর নামে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা এবং এসআর হাইওয়ে সার্ভিসেস–এর নামে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটির চেয়ারম্যান এবং একটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ঋণের বিষয়ে খেলাপি অবস্থার কারণে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেওয়ার তথ্যও জানা গেছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী শাহনাজ সিরাজের মালিকানাধীন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ–এর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫১২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। একই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব তথ্যও নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে হলফনামা দাখিল করলে তা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীর স্ত্রী বা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের আর্থিক তথ্য গোপন করাও একইভাবে আইন লঙ্ঘনের শামিল।
হলফনামা অনুযায়ী, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নিজের নামে ১৬২ কোটি টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৯ কোটি টাকা এবং সন্তানের নামে ৯ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন।
এদিকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ ও বকেয়া বিলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।





