ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শেষ ১১ বছরে (২০১৩–২৩) এক হাজার ৬৫৬ পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়। তবে এই পুরস্কার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেওয়া হয় বিরোধী মত দমন, গুম-খুন, সাজানো জঙ্গি অভিযান ও বিতর্কিত নির্বাচনে ভূমিকার কারণে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদক দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক র‍্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদসহ ১০৩ কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভূমিকার কারণে তাদের দেওয়া বিপিএম ও পিপিএমসহ চার ধরনের পদক বাতিল করা হয়েছে।

পদক প্রদানের ধারা

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৪০ জন, ২০১৪ সালে ২০ জন, ২০১৫ সালে ৮৬ জন, ২০১৬ সালে ১০২ জন, ২০১৭ সালে ১৩২ জন, ২০১৮ সালে ১৮২ জন, ২০১৯ সালে ৩৪৯ জন, ২০২০ ও ২০২১ সালে ২৩০ জন, ২০২২ সালে ১১৫ জন এবং ২০২৩ সালে ৪০০ জন পুলিশ সদস্য পদক পান। পদকগুলো মূলত বিপিএম, বিপিএম (সেবা), পিপিএম ও পিপিএম (সেবা) ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়। প্রতিটি পদকের সঙ্গে নগদ অর্থ ও মাসিক ভাতা জুড়ে দেওয়া হয়।

জঙ্গি দমন ও সাজানো অভিযান

এসব পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির প্রাক্তন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ অনেকে। সূত্র জানায়, ‘জঙ্গি দমন’-এর নামে আলেম ও ইসলামি ভাবধারার তরুণদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন তারা। অনেককে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

২০১৭ সালের নরসিংদীর ‘গার্ডিয়ান নট’ অভিযান থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের মিরপুর ও বগুড়ার গোপন কারাগারের ঘটনাগুলোতেও জড়িত কর্মকর্তারা পদক পান। অথচ পরে তদন্তে দেখা যায়, অভিযানে নিহতদের অনেকে আগে থেকেই আটক ছিলেন।

বিরোধী আন্দোলন দমনে পুরস্কার

২০১৪ সালের নির্বাচন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোট ঘিরেও বহু কর্মকর্তা পদক পান। র‍্যাব-১৫, র‍্যাব-৭, র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব সদর দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বিক্ষোভ দমনের কারণে পুরস্কৃত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত

মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, “আওয়ামী আমলে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর অংশ হিসেবেই এসব পদক দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লে পদক প্রত্যাহার জরুরি।”

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, অতীতে অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি সাত কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।