বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে জুলাই আন্দোলন ও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই লাইভে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন দিক, তাতে তার ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন।
লাইভে উমামা জানান, তার কখনোই কারো ক্ষতি করার বা অপমান করার মানসিকতা ছিল না। বরং একটি স্বপ্ন ও বিশ্বাস থেকেই তিনি আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ছোট মিছিল, স্লোগান—এসব দিয়েই শুরু হয়েছিল পথচলা। তবে কখনো কল্পনাও করেননি যে এই আন্দোলন এতটা বিস্তৃত হবে এবং এতে শিশুসহ সাধারণ মানুষও জড়িয়ে পড়বে।
তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে। তখন তিনি ফেডারেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে শুরু করেন। তার মতে, আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মকে বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই তাকে মূলধারার বাইরে রাখা হয়।
উমামা আরও বলেন, সমন্বয়কদের কার্যক্রম তখন তেমন কার্যকর ছিল না। বরং সাধারণ মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছিল। যদিও সমন্বয়কের ধারণা প্রয়োজন ছিল সংগঠনের সংযোগ ও সমন্বয়ের জন্য, তবুও বাস্তবে তারা খুব বেশি সহায়তা করতে পারেনি।
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের পরে অনেকেই সমন্বয়ক পরিচয়ে নানা সুবিধা আদায় করতে শুরু করেন—কেউ দখল, কেউ চাঁদাবাজি, কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক কাজ করতে থাকেন। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমন্বয়ক পরিচয়ের অপব্যবহার যেন কোনো নতুন বাহিনীতে রূপ না নেয়।
আন্দোলনের অভিজ্ঞতার আলোকে উমামা বলেন, সময় এসেছে এই প্ল্যাটফর্মকে ছাত্রদের গণ্ডির বাইরে এনে আরও বৃহৎ পরিসরে ভাবার। তিনি মনে করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অনেকাংশেই পূর্ণ হয়েছে এবং এখন দরকার আরও বিস্তৃত জাতীয় ঐক্যের পথ খোঁজা।
তবে এই মত প্রকাশের কারণে অনেকেই তাকে ভুল বুঝেছেন এবং নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবুও বিভিন্ন জেলার তরুণদের মধ্যে দেশকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখে তিনি আশাবাদী।
সবশেষে উমামা বলেন, আন্দোলন থেকে কিছু মানুষ সুবিধা আদায় করেছে, যা তার জানা ছিল না। পরে তিনি বুঝেছেন, টেন্ডার, তদবির, এমনকি প্রশাসনিক পদের পেছনেও অনেকে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে। “জুলাইকে কেন অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো হবে?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটাই ঘটেছে।
তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক কোনো সংকট নেই। বরং ভালো একটি পরিবার ও জীবনের নিরাপত্তা রয়েছে। তাই দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার দায় থেকেই তিনি কথা বলে যাচ্ছেন।





