গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির ডজনখানেক শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। এতে স্কুল বন্ধ রাখা হয়, ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং সড়ক ও বন্দর অবরোধ করা হয়।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগের দিন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ইতালি এখনো এ উদ্যোগ থেকে সরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আগে বলেছিলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই স্বীকৃতি দেওয়া সমাধান না এনে বরং বিপরীত ফল দিতে পারে।
গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইতালিজুড়ে তৃণমূল ইউনিয়নগুলো ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ‘লেটস ব্লক এভরিথিং’ শ্লোগানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারকে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা উদ্যোগে সমর্থন প্রকাশ করেন।
মিলান থেকে পালের্মো পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫টি পৌরসভায় মানুষ রাস্তায় নামেন। জেনোয়া ও লিভোর্নোতে ডক শ্রমিকরা বন্দর অবরোধ করে দাবি জানান, ইতালির বন্দরগুলো ইসরাইলে অস্ত্র পাঠানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে রোমের টার্মিনি স্টেশনের বাইরে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শ্লোগান দেন।
আয়োজকরা জানান, শুধু মিলানেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বোলোগনার পুলিশও জানিয়েছে, সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।
তবে মিলানে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কালো পোশাক পরা ও লাঠিসোঁটা হাতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী শহরের প্রধান ট্রেন স্টেশনের প্রবেশদ্বার ভাঙার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে প্রায় ৬০ জন পুলিশ আহত হন এবং অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়।





