প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নিহতরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খবর দিয়েছে Al Jazeera।


লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা তদারকির দায়িত্বে থাকা United States Southern Command এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবারের অভিযানে তিনজন নিহত হন। ঘটনাটিকে “প্রাণঘাতী সামরিক আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এটি এমন এক এলাকায় চালানো হয়েছে যা মাদক পাচারের পরিচিত রুট হিসেবে চিহ্নিত। তবে নিহতরা মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।


সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ৪৩টি অভিযানে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


এ ধরনের অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লাতিন আমেরিকার কয়েকজন নেতা, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এখতিয়ার নেই; সেখানে এভাবে অভিযান চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।


সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, আউটবোর্ড ইঞ্জিনযুক্ত একটি স্থির নৌযান হামলার পর আগুনে পুড়ে ভেসে যাচ্ছে। ভিডিওটি ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।


এর আগে চলতি সপ্তাহেই একই কমান্ড জানায়, তারা প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ১১ জনকে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক Ben Saul বলেন, নৌযানে হামলার ঘোষণা সমুদ্রে বেসামরিক লোকজন হত্যার স্বীকারোক্তির সামিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।