জনপ্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরামর্শদানের উদ্দেশ্যে গঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি থেকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে বাদ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
গত ৮ জানুয়ারি সরকার ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে কমিটির সভাপতি করা হয়। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সদস্যসচিব হিসেবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব/সিনিয়র সচিবও কমিটির সদস্য ছিলেন।
পরে, ২৬ আগস্ট কমিটির প্রথম দফা পুনর্গঠনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পদত্যাগ করা উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের পরিবর্তে নতুন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমকে সদস্য করা হয়। একই সঙ্গে কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে। তবে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই পুনর্গঠন এমন এক সময় এলো, যখন অবসরপ্রাপ্ত সচিব শামসুল আলম একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ তুলেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে। গত মার্চে পিআরএলে যাওয়া এই কর্মকর্তা দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নগদ অর্থের বিনিময়ে কেউ সচিব হতে পারছে, এবং এ বিষয়ে তিনি প্রমাণ জানেন।
তার এই পোস্টের পরদিনই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোখলেস উর রহমানকে বদলি করে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়। এর পরপরই সরকার জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটিতে নতুন করে পরিবর্তন আনে।





