বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদল বা ভোলবদলের ঘটনা নতুন নয়। তবে কখনো কখনো দলীয় পদ-পদবি বণ্টনে এমন কিছু ঘটে যা বিস্ময় সৃষ্টি করে—তেমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়, যা ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঝাউগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক পদে থাকা শিহাব ফেরদৌস সম্প্রতি সরাসরি হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ২৬ ডিসেম্বর হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২১ আগস্ট জেলা বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষে পৌর বিএনপির ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হলে সেখানে শিহাব ফেরদৌসের নাম নতুন দায়িত্বে দেখা যায়।
এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, কারণ ওই কমিটিতে আরও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকেও পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঝাউগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলম আফসারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিহাব ফেরদৌস তার কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিহাব ফেরদৌস বলেন, যুবলীগে তার কোনো পদ আছে তা তিনি জানতেন না। তিনি জানান, “আমি হাজরাবাড়ী পৌরসভার ভোটার। প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি এখানে নানাবাড়িতে থেকে।” যদিও তার পৈতৃক বাড়ি ঝাউগড়া ইউনিয়নে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, “শিহাব স্থানীয় ভোটার হওয়ায় তাকে পদ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে কিছু অভিযোগ শুনেছি, তবে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”
এদিকে জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব খান বলেন, “যদি কেউ আওয়ামী লীগের কোনো পদে থেকে বিএনপির পদে আসীন হন, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।





