বিশ্বব্যাপী ‘সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই। প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিচারক ক্যাপ্রিওর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, “বিচারক ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ ও সাহসী লড়াইয়ের পর শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। তিনি ছিলেন দয়া, নম্রতা এবং মানুষের কল্যাণে অটল একজন আদর্শ মানুষ।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুর সময় ক্যাপ্রিওর পাশে ছিলেন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা। তার ছেলে ডেভিড ক্যাপ্রিও জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে।
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিওর জনপ্রিয়তা আসে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরের মিউনিসিপ্যাল কোর্টে বিচার কার্যকালীন ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। সাধারণত ট্রাফিক ও পার্কিং আইন ভঙ্গকারীদের তিনি শুধু আইনের চোখে দেখতেন না, শোনার চেষ্টা করতেন তাদের জীবনের বাস্তব গল্প। এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয় জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘Caught in Providence’, যা ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রচারিত হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অনুষ্ঠানটি এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হয়েছিল।
শোয়ের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতো নিয়মিত। তার উষ্ণতা, সহানুভূতি ও ন্যায়ের মিশ্রণে গড়া বিচার অনেকের জীবনেও পরিবর্তন এনেছে।
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও ১৯৮৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর কিছু মাস আগে প্রকাশ করেন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বই ‘Compassion in the Court: Life-Changing Stories from America’s Nicest Judge’। বইটিতে উঠে এসেছে তার বিচারক জীবনের নানা মানবিক গল্প।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি জানান, তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং তিনি সবার কাছে প্রার্থনা চান। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমার জন্য প্রার্থনা করুন... আপনার ভালোবাসা ও দোয়া আমাকে এই লড়াইয়ে শক্তি জোগাবে।”
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও ছিলেন শুধু একজন বিচারক নন—তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান মানুষ, প্রিয় স্বামী, পিতা, দাদা, প্রপিতামহ এবং বন্ধুও। তার মৃত্যুতে আইনের সঙ্গে মানবতার মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাকে মনে রাখবে একজন সহানুভূতিশীল বিচারক হিসেবে, যিনি প্রমাণ করেছিলেন—আইন মানে কেবল শাস্তি নয়, হতে পারে সহানুভূতি, ক্ষমা ও মানবিকতার সুযোগও।





