সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নতুন সীমানা জারি করে পুনঃতপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার পর ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই পুনঃতপশিল প্রকাশ করা হয়। রাত প্রায় ১টার দিকে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রূহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুনঃতপশিল অনুযায়ী, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৯ জানুয়ারি। আপিল দায়ের করা যাবে ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২৭ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীনে জাতীয় সংসদ গঠনের উদ্দেশ্যে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক Civil Petition for Leave to Appeal No. 190 of 2026 মামলায় ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া আদেশের আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুসারে এই পুনঃতপশিল ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনসংক্রান্ত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন, নির্বাচন কমিশনের গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সারাদেশের সঙ্গে একই দিনে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগের এই আদেশে সাঁথিয়া উপজেলা পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা পাবনা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ৩০০ সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার কিছু এলাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে আগের সীমানা পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে আবেদন করেন। পরে আপিল বিভাগ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
এর ফলে পাবনা-১ ও ২ আসনের ক্ষেত্রে ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট বহাল থাকে। সীমানা নিয়ে এই অনিশ্চয়তার কারণে নির্বাচন কমিশন ৯ জানুয়ারি ওই দুই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সবশেষে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আপিল বিভাগে আবেদন করলে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত নির্ধারিত সীমানায় নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন নতুন করে পুনঃতপশিল ঘোষণা করল।





