কাশ্মীরের সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে decades পুরোনো ইন্দুস পানি চুক্তি নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রে। ভারত চেনাব, ঝিলাম ও ইন্দুস নদী থেকে পানি উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ থাকায় দেশটির কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার (১৬ মে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
\r\nপ্রতিবেদনে জানানো হয়, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পর্যটকদের লক্ষ্য করে চালানো এক বন্দুক হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ১৯৬০ সালের ইন্দুস ওয়াটারস চুক্তি স্থগিত করে। এরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নদীগুলোর ওপর থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এই নদীগুলো পাকিস্তানের কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
\r\nদিল্লির আলোচনায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চেনাব নদীর ওপর রণবীর খাল সম্প্রসারণ, যার দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করে ১২০ কিলোমিটার করা হবে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই খাল এখনো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পানি সরবরাহ করে। খালটির পানি উত্তোলন ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ ঘনমিটার করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৪০ ঘনমিটার।
\r\nবিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে, তবে পাকিস্তানের জন্য এটি তাৎক্ষণিক সংকেত—পানির প্রবাহ হ্রাস পেতে পারে।
\r\nমোদি সম্প্রতি এক ভাষণে বলেন, ‘পানি ও রক্ত একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না’, যা ইঙ্গিত দেয় কাশ্মীর ইস্যুকে ঘিরে ভারতের কঠোর অবস্থান। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যতক্ষণ না পাকিস্তান ‘সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়া বন্ধ করবে, ততক্ষণ এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর হবে না।
\r\nপাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত চুক্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান এটিকে এখনো কার্যকর মনে করে এবং বিশ্বব্যাংক, স্থায়ী সালিস আদালত বা হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
\r\nপাকিস্তান সরকার একাধিকবার সতর্ক করে বলেছে, ইন্দুস পানির প্রবাহ বন্ধ বা সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা ‘যুদ্ধের পদক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি এবং অধিকাংশ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ইন্দুস সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল।
\r\nবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় পানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক পানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড মাইকেল বলেন, “ভারতের যেকোনো ধরনের বাঁধ বা খাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগলেও এর কৌশলগত প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ।”
\r\nএছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভারতের এই পদক্ষেপ চীনকেও ভারতের বিপক্ষে একই কৌশল নিতে উৎসাহিত করতে পারে, যেহেতু তিব্বতে ইন্দুস নদীর উৎস অবস্থিত।
\r\nবিশ্বের অন্যতম সফল আন্তঃদেশীয় পানি ভাগাভাগির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত ইন্দুস ওয়াটারস চুক্তি বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে। কাশ্মীর ইস্যুতে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ভারত এ চুক্তিকে ব্যবহার করছে বলে মত দিয়েছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব। তিনি বলেন, “দিল্লি শুধু আলোচনার পরিধি নয়, এজেন্ডাও সংকুচিত করছে—এখন শুধু পানি চুক্তির মতো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।”
\r\nবিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি, নইলে এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।





