পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার শহরে একটি স্কুলবাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৫ জন। বুধবার (২১ মে) শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
\r\nঘটনার পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিএমএইচ খুজদারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুজদারের ডেপুটি কমিশনার।
\r\nঘটনার পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে ভারতের রাষ্ট্রীয় মদদ রয়েছে। তারা দাবি করে, “ভারতের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে এই কাপুরুষোচিত ও ঘৃণ্য হামলা চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল একটি স্কুলবাস।”
\r\nআইএসপিআর আরও জানায়, “পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘বুনিয়া-নুম মারসুস’-এ চাপে পড়ে এখন ভারত সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে। নিরীহ শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
\r\nবিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভারত সরকার এভাবে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানবতা ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন করছে। হামলার পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও বাস্তবায়নকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।”
\r\nপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “নিরীহ শিশু ও শিক্ষকদের ওপর হামলা এক বিভৎস ও অমানবিক কর্মকাণ্ড। এই কাপুরুষোচিত হামলায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
\r\nতিনি আরও বলেন, “এ ধরনের হামলা কখনোই পাকিস্তানের মনোবল ভাঙতে পারবে না। জাতীয় ঐক্য এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।”
\r\nবেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সহিংসতার জন্য আলোচিত। তবে একটি স্কুলবাসে এমন বর্বরোচিত হামলা এবং তার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ—এই ঘটনা নতুন করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে এনে দিয়েছে।





