গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই তরুণ, রতন ঢালী (২৯) এবং ফয়সাল হোসেন (২২), সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে নিহত হয়েছেন। তারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নিহতের বিষয়টি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (সিটিটিসি) ইউনিট নিশ্চিত করেছে।
সিটিটিসির বিশেষ পুলিশ সুপার রওশন সাদিয়া আফরোজ জানিয়েছেন, “আমরা শতভাগ নিশ্চিত, রতন ঢালী টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।”
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রতন ও ফয়সাল ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে টিটিপিতে যোগ দেন।
রতন ঢালী ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতেন। তার বাবা আনোয়ার ঢালী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক, মা সেলিনা বেগম। পরিবারকে শেষবার রতন ফোন করেছিলেন ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল, রোজার ঈদে। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাবেন। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি।
রতনের বাবা বলেন, “রতন গ্রামের বাড়ি থেকে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল। দুবাই যাওয়ার জন্য এটি প্রয়োজন ছিল। আমরা দেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে বলেছিল এতে তার যাত্রায় সমস্যা হবে।”
রতন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন, এরপর মোবাইল সার্ভিসিং শিখে কাজ শুরু করেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে টিটিপি ৫৪ যোদ্ধাকে হত্যা করার পর অনুসন্ধান শুরু করা হয়। নিহতদের মধ্যে সাভারের আহমেদ জুবায়েরও ছিলেন। এরপর রতন ও ফয়সালের নাম শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রতন ও ফয়সাল প্রাথমিক জীবন থেকে সাধারণ ছিল, তবে শেষ কয়েক বছর ধরে তারা বিদেশে যাওয়ার কথা বলতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, তারা টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশি যুবকদের প্ররোচনা এবং বিদেশে যোগদানের পথ প্রশস্ত করার কাজে জড়িত ছিলেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং পরিবারকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের যুবকদের বিদেশে চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য।





