সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পর্কিত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমোদন দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এই আদেশ দেন।
আদালতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভুঁইয়া, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন আনতে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে। রাষ্ট্রপতি ৩ জুলাই সেটি অনুমোদন দেন। সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মধ্যে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রক্ষমতা অসাংবিধানিকভাবে দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়।
সংশোধনীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায়। পরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা সহায়তাকারী হিসেবে যুক্ত হন।
হাইকোর্ট ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিধান, সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য সংক্রান্ত ৭ ক ও ৭ খ, মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ক্ষমতা কমানো সংক্রান্ত ৪৪ (২) ও ১৪২ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। ফলে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও কিছু অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনরায় কার্যকর হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি লিভ টু আপিল করেন। অন্য তিনজন হলেন এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও আলাদা লিভ টু আপিল দায়ের করেন। প্রথম দিন শুনানি হয় বুধবার, যেখানে বদিউল আলম মজুমদার ও অন্য চারজনের আইনজীবী ড. শরীফ ভুঁইয়ার পক্ষ থেকে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।





