সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে হওয়া সংঘর্ষ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ কম্বোডিয়া সরকার তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।


\r\n

কম্বোডিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সান চানথোল গত ১ আগস্ট শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। রয়টার্সকে ফোনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “হ্যাঁ”—এমন মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


\r\n

এর আগে নমপেনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চানথোল ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তার ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ “মূল্যবান ও কার্যকর” ছিল, এবং তিনি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য ব্যক্তি।


\r\n

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ হয়, যাতে ৪৩ জন প্রাণ হারায় এবং তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

\r\n

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন ও সংঘর্ষ থামানোর আহ্বান জানান। পরে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় ২৯ জুলাই সোমবার উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।


\r\n

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের ভূমিকাকে “ফলপ্রসূ” বলা হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “এই শান্তির নেপথ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক নেতৃত্ব ছিল নির্ধারক। তাকে নোবেল দেওয়া হোক!”


\r\n

এটাই প্রথম নয়। এর আগেও জুন মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের সময় মধ্যস্থতা করায় পাকিস্তান ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিল। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গত মাসে ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন।


\r\n

এই মনোনয়নের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কেউ কেউ প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্পের বৈচিত্র্যময় ও বিতর্কিত কূটনৈতিক রেকর্ড নিয়ে। তবে, কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এমন এক সময়ে এ মনোনয়নের ঘোষণা আসা, যখন অঞ্চলটি সহিংসতা থেকে সবে মাত্র কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে, সেটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।