নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি জেন-জিদের আন্দোলন ও জোরদার বিক্ষোভের চাপের মুখে আজ (মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন। টানা দুই দিনের বিক্ষোভের পর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবরের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।


পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী ওলি উল্লেখ করেছেন, সাংবিধানিক পথে সংকট সমাধানের জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “সোমবারের বিক্ষোভ ও পরবর্তী ঘটনাগুলো আমাকে দুঃখিত করেছে। কোনো ধরনের সহিংসতা দেশের স্বার্থে ভালো নয়। এখন শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানই প্রয়োজন।”


এর আগে, সেনাবাহিনীও ওলিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল। গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়।


গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা তরুণ প্রজন্মের চলমান আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে। আন্দোলনে অংশ নেন বিনোদন ও সংস্কৃতির বিভিন্ন তারকাও।


২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউজন রাজভাণ্ডারি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আমাদের আন্দোলনের সূচনা করেছে। তবে আমরা একত্রিত হয়েছি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে।”

২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইক্ষমা তুমরোক যোগ করেন, “আমরা সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আমরা পরিবর্তন চাই।”


পদত্যাগের খবর দেশের মানুষকে উচ্ছ্বাসে ভরে দিয়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা নেপালের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।