সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
\r\nসম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল শাহজাদপুর সরকারি কলেজ শাখার আংশিক ৮ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয়। এতে সাব্বির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়েছে, যিনি এর আগে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির দ্বিতীয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
\r\nনেতাকর্মীদের দাবি, কিছুদিন আগেও সাব্বির হোসেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। এখন তাকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় সংগঠনের আদর্শ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
\r\nসাব্বির হোসেনকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে দেখা গেছে—এমন একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের নামাঙ্কিত প্যাডেও তার নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে।
\r\nশাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাজাহার হোসেন বলেন, “সাব্বির আগে ছাত্রলীগ করত, তাকে আমরা দলে যোগ দিতে দেখিনি। কীভাবে কমিটিতে এলো, জানি না।”
\r\nউপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মামুন হোসেন জুয়েল বলেন, “সে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করত, তবে কোন পদে ছিল, বলা মুশকিল।”
\r\nএ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাব্বির হোসেন বলেন, “এক ভাইয়ের সঙ্গে চলাফেরা করায় ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম। ছবি তোলা হয়েছিল, তবে আমি কখনো সংগঠনের পদধারী ছিলাম না। যে প্যাডে নাম রয়েছে, সেটাও আমার নয়।”
\r\nউপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, “কমিটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। সাব্বির যে আগে ছাত্রলীগে ছিল, তার প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তবে আন্দোলনের সময় সে আমাদের সঙ্গে ছিল।”
\r\nসাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরু বলেন, “সে আগে ছাত্রলীগে ছিল ঠিকই, তবে ২০২০ সালের পর থেকে আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দেওয়া হয়েছে।”
\r\nএ ঘটনায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, বহু ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা থাকতে কীভাবে একজন সাবেক প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীকে নেতৃত্বে আনা হলো?
\r\nসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একে সংগঠনের আদর্শবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
\r\nসংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





