বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।


শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, যারা বর্তমানে প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা নির্বাচিত নন এবং নিজেরাই এই অবস্থানে এসেছেন। তার দাবি, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, ভারত সরকার সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবে বাস্তবে তা নিশ্চিত হচ্ছে না।


নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দলটির ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় এবং কারচুপি ঘটে, তাহলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলামীর ভোটের হার সাধারণত পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।


বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন রাজ্যসভার এই সদস্য। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু লোককে ভারতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে, যা একটি সমস্যা। এ ধরনের চর্চা বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন এবং বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।


বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াজগতের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশে তার অনেক বন্ধু রয়েছেন, যাদের অনেকে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটসহ সামগ্রিক ক্রীড়ার জন্য ইতিবাচক নয়।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত নয় এমন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মাধ্যমে নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।