ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এমন এক সময়ে, জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মকাণ্ডে নিজেদের সক্রিয় করে তুলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন।
\r\nবিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে তৃণমূলে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। জামায়াত প্রায় ২০০টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করে ফেলেছে এবং পোস্টার-ব্যানারসহ প্রচারণা জোরদার করেছে। অন্যদিকে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় মনোনয়নের বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত এবং এরই মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিনিময় সভা, ঈদ উপহার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
\r\nতবে বিএনপি এখনো সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নামেনি। দলটি আন্দোলন ও সংস্কারের প্রশ্নে এখনও রাস্তায় সক্রিয় থাকলেও তাদের পক্ষে ব্যানার, পোস্টার কিংবা শোভাযাত্রা দেখা যাচ্ছে না। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতাকর্মীদের পোস্টার, ব্যানার ও শোভাযাত্রা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলটি নাগরিক ভোগান্তি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং যারা এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
\r\nবিএনপির নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তারা পূর্ণমাত্রায় প্রচারে নামবেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, \"আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে সরকার আদৌ নির্বাচন দিতে চায় কি না।\"
\r\nঅন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, দলটি ন্যূনতম সংস্কার শেষে নির্বাচনের পক্ষে। তার ভাষায়, \"আমরা চাই নির্বাচন আগামী প্রথম রমজানের আগেই হোক।\" জামায়াত দেশের প্রতিটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
\r\nনতুন উদীয়মান দল এনসিপি এরই মধ্যে ঈদ ও বৈশাখ ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়েছে। দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা নির্বাচন পূর্বে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিও তুলেছে এবং সংস্কার ও বিচারের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়ে চলেছে।
\r\nএদিকে নির্বাচন আয়োজন ও সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বিভক্ত। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, জামায়াত চায় সময়োপযোগী নির্বাচন এবং এনসিপি চায় সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে জাতীয় নির্বাচন।
\r\nসব মিলিয়ে রাজনৈতিক মাঠে সরব হয়ে উঠছে একাধিক দল, তবে স্পষ্ট রোডম্যাপের অনুপস্থিতিতে এখনো অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে যদি প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হয়, তাহলে বিএনপিসহ একাধিক দল ফের আন্দোলনের পথে নামারও ইঙ্গিত দিয়েছে।





