আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর ঘটনায় নিয়মিতই অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

দলগুলো প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পর অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের শক্তি প্রদর্শন ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে। এতে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় নির্বাচনি জনসংযোগে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন, এতে একজন নিহতও হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলেও ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অস্ত্রের কিছু এখনো স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের হাতে রয়েছে এবং তা দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। রাজধানী, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, যশোর ও সিলেটে রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি বলেন, “নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই অভিযান জোরদার করতে হবে।”

যৌথ বাহিনীর তথ্যমতে, ৫ আগস্টের পর থেকে ৩৫০টির বেশি অস্ত্র ও প্রায় ৫ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, লুট হওয়া অস্ত্রের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা গেছে। সম্প্রতি রাজশাহীতে ট্রেন তল্লাশিতে আটটি বিদেশি পিস্তল, বিস্ফোরক ও গান পাউডার উদ্ধার হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র সীমান্তপথে দেশে প্রবেশ করেছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৪৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে লুট হওয়া ৯০টি র‍্যাবের ও ২২৮টি পুলিশের। পাশাপাশি ১ হাজারের বেশি অবৈধ গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২৫টি সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে ঢুকছে। এসব পথের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, কুমিল্লা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রশাসনকে সহায়তা করে অস্ত্রবিহীন নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা। তাদের মতে, এই অস্ত্রের বিস্তার শুধু সহিংসতার আশঙ্কাই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, যা অভিযানে আরো সাফল্য আনবে।”

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। খুলনা, চট্টগ্রাম ও রূপসায় সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে যদি অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে সহিংসতা বাড়তে পারে এবং ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।