আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের একসূতো পরিমাণ বিচ্যুতিও বরদাস্ত করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং বর্তমান কমিশন সে ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না।

তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেওয়া হবে না। তবে কেউ যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বশবর্তী হয়ে দায়িত্বে অবহেলা করেন, সে ক্ষেত্রে কমিশন সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটি কেবল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এটিই প্রথম বড় নির্বাচন এবং এবারই প্রথম কার্যকরভাবে পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ‘খরার পর বৃষ্টির মতো’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবার প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি মানার প্রবণতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথকে আরও সহজ করেছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, ফেনী-৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনসহ সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন থানার ওসিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।