বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। রিজভী জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটও একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যা দেশের মানুষের প্রত্যাশা। রিজভী ধর্মকে রাজনীতিতে অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করা অনুচিত উল্লেখ করে বলেন, যারা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি করছেন, তাদের বিষয়ে জনগণই রায় দেবে। অতিরিক্ত ধর্মীয় ব্যবহার রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তারা বিরোধিতা করলেও ভবিষ্যতে অনেক দল বিএনপির অংশ হতে পারে।

এর আগে সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেন, স্বল্পন্নোত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকা উচিত। যেসব সরকার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যাদের হাতে জনগণের ম্যান্ডেট নেই, দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করতে এমন দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণের ঝুঁকি এবং রপ্তানি হ্রাসকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দেখায় যে প্রস্তুতি ছাড়া শুধু ‘অধিকার’ দিয়ে উত্তরণ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার। সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো কোনো রুটিন কাজ নয়; এগুলো জাতীয় সম্পদ সংক্রান্ত কৌশলগত অঙ্গীকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বাঁধা হিসেবে স্থাপন করছে। জনআলোচনাকে ঝামেলা মনে করা হচ্ছে, যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে ‘অনিবার্যতা’ বলে পাশ কাটানো হচ্ছে।