আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের প্রচারণা, ভিআইপি ব্যক্তিদের ভ্রমণ—সব মিলিয়ে হেলিকপ্টারসেবার চাহিদা বেড়েছে। দ্রুত যাতায়াত, দূরবর্তী এলাকায় অল্প সময়ে পৌঁছানো এবং একদিনে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হেলিকপ্টার এখন রাজনৈতিক প্রচারণার কার্যকর বাহন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে নীতি জটিলতায় থাকা হেলিকপ্টার খাতও নতুন করে চাঙা হয়ে ওঠার আশা করছে।

অপারেটররা জানাচ্ছে, নির্বাচনী ভ্রমণ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই যারা আগেভাগে বুকিং দিচ্ছেন, তারা ভাড়ায় তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারাও প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হেলিকপ্টার থেকে কোনো লিফলেট বা প্রচারসামগ্রী ছড়ানো যাবে না, আবার হেলিকপ্টারে ব্যানার ঝোলানোরও অনুমতি নেই। এর আগে কেবল দলীয় প্রধান বা শীর্ষ নেতাদেরই হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ ছিল।

১৯৯৯ সালে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে হেলিকপ্টারসেবা চালু করে। ধীরে ধীরে এই খাত বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টারসেবা দিচ্ছে, যাদের বহরে রয়েছে প্রায় ৩৫টি হেলিকপ্টার।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে প্রায় ৩৫টি সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে ১৩টি ব্যবসায়িক গ্রুপের মাধ্যমে। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে স্কয়ার এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ, ইমপ্রেস এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার, আর অ্যান্ড আর এভিয়েশন, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস, পারটেক্স এভিয়েশন, সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস, আকিজ, পিএইচপি, ফ্লাই ট্যাক্সি এভিয়েশন ও প্রবাসী হেলিকপ্টার। এছাড়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) পেয়ে বেক্সিমকো এভিয়েশনও বাজারে যুক্ত হয়।