জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, ১০ বছর বয়সী তাসনিয়া খাতুনের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর গোয়ালঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।


ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত প্রতিবেশীর বাড়ি ঘেরাও করেন এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। এ সময় দুই নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ অভিযুক্ত দুই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।


ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, শিশুটির লাশে পচন ধরায় চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। গলায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেখে বোঝা যাচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধে অথবা গলা কেটে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। লাশটি জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার আগে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় তাসনিয়া। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রতিবেশী একরামুল হোসেনের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা সেখানে যান। এ সময় একরামুল দ্রুত পালিয়ে যান। পরে গোয়ালঘরে একটি বস্তার ভেতর থেকে তাসনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।


স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাসনিয়ার শরীরে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ছিল। তাঁরা ধারণা করছেন, মুক্তিপণ কিংবা স্বর্ণালংকারের জন্যই একরামুল ও তাঁর সহযোগীরা শিশুটিকে হত্যা করে থাকতে পারে।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে, তবে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হত্যার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি