যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোট শুরু হয়, যা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)। প্রায় ৪৭ লাখ ভোটারের শহরে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন—নিউইয়র্কের ইতিহাসে এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া সর্বোচ্চ আগাম ভোটের রেকর্ড।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো দুজনই আজ ভোট দিয়েছেন। কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া এলাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দেন মামদানি, সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি। ভোটের পর তিনি বলেন, “আমরা নিউইয়র্কে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। সময় এসেছে পুরোনো রাজনীতি বদলে দেওয়ার।”
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিক্ষা, আবাসন ও গণপরিবহন সংস্কারের অঙ্গীকারে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন মামদানি। ভোটকেন্দ্রে এক ভোটার গ্লোরি মিসান বলেন, “মামদানির পরিকল্পনাগুলো বাস্তবসম্মত ও মানবিক। শহর বদলে দেওয়ার মতো চিন্তা আছে তাঁর।”
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন। তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় মানুষ আমাকে বাহবা দিয়েছে—এটা ভালো লক্ষণ। মনে হচ্ছে পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে।”
জরিপে ব্যবধান কমেছে
আগের জরিপগুলোয় মামদানি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ তথ্য বলছে, ব্যবধান কিছুটা কমেছে। গত বৃহস্পতিবার এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিল জরিপে মামদানি কুমোর চেয়ে ২৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। তবে সোমবার রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকসের জরিপে দেখা গেছে, মামদানি পেয়েছেন ৪৬.১ শতাংশ জনসমর্থন, কুমো ৩১.৮ শতাংশ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া ১৬.৩ শতাংশ। অর্থাৎ মামদানি কুমোর চেয়ে এগিয়ে আছেন ১৪.৩ পয়েন্টে।
কুমোকে ট্রাম্পের সমর্থন
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার জয়ের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমোকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর লক্ষ্য, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানির জয় ঠেকানো।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “আপনারা অ্যান্ড্রু কুমোকে পছন্দ করুন বা না করুন, তাঁকেই ভোট দিতে হবে। স্লিওয়াকে ভোট দেওয়া মানে মামদানিকেই ভোট দেওয়া।”
এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার মামদানিকে আক্রমণ করে বলেছেন, “নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে আমি খারাপ ডেমোক্র্যাটকে (কুমো) বেছে নেব, কিন্তু কমিউনিস্টকে (মামদানি) নয়।”
কুমো যদিও বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর প্রতি নয়, বরং মামদানির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আর মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এসব সমালোচনায় ভয় পান না—“নিউইয়র্কের মানুষই নির্ধারণ করবে, কে তাদের ভবিষ্যতের প্রতিনিধি হবে।”





