চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নামে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩১ শয্যা নিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসক, ঔষধ ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা মিলছে না। এর ফলে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার। ৪ জন কনসালটেন্টের মধ্যে একটি পদ শূন্য, এবং বাকি ৩ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকায় সংযুক্তিতে কর্মরত। এছাড়া হাসপাতালে মোট ১২৭টি জনবলের মধ্যে ৩৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে নিয়মিত বিপাকে পড়ছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় শিশুদের চিকিৎসা সীমিত পরিসরে সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী ডাক্তাররা নিয়মিত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন। এছাড়া তাদের নিজস্ব ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। রাতে হাসপাতালে কোনো মেডিকেল অফিসার থাকেন না, যার কারণে রোগীদের অনেক সময় অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০১৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে বর্তমানে ৩১ শয্যায় সেবা প্রদান করা হচ্ছে। শয্যার অভাবে রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায় নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্র প্রায় ১৬ বছর ধরে বিকল রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার অনেক কার্যক্রমও সচল নয়। এছাড়া হাসপাতালের ওটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, কারণ এখানে কোনো এ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট নেই। ফলে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ঔষধের সংকটও ব্যাপক। হাসপাতালে চিকিৎসারত এক রোগী জানান, “হাসপাতাল থেকে মাত্র দুটি নাপা ঔষধ ছাড়া আমাকে আর কিছু দেওয়া হয়নি। ডাক্তার প্রয়োজনীয় ঔষধ লিখে দিয়েছেন, যা বাইরে থেকে কিনতে হবে।”

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মকবুল হাসান জানিয়েছেন, “হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জন রোগী সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহও সম্ভব হচ্ছে না। তবে সব সংকট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। শিগগিরই সব সমস্যা কাটিয়ে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে পারব।”

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পদ শূন্য। ৪৮ বিসিএসের সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে। এ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি; সমস্যা সমাধান হলে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”