গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ না পেলে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ওই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হাসান মামুন।


গত ২১ ডিসেম্বর গণধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমঝোতার প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই ওই রাতেই হাসান মামুন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি ইনশাআল্লাহ। দেশবাসীর দোয়া এবং গলাচিপা–দশমিনার জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করছি।”


এই ঘোষণার পর দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দলীয় প্রতীক না থাকলেও অনেক নেতাকর্মী অনলাইন ও অফলাইনে হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।


এর আগে বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজিত জনসভায় হাসান মামুন তার প্রার্থিতার বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি একবারের জন্য দলীয় এমপি পেয়েছিল, তাও মাত্র ১৭ দিনের জন্য। এ আসনের মানুষ বিএনপির দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে দলীয় প্রার্থীকে সংসদে পাঠাতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যদি এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী না থাকে, তাহলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলে জনগণের সিদ্ধান্তকেই তিনি প্রাধান্য দেবেন বলেও জানান।


এদিকে বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর পর আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বাড়তে থাকে। বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থক অনলাইনে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান। অপরদিকে গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিএনপির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এ আসনে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী। তারা মনে করছেন, যেই প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিক, বিজয়ের মাধ্যমে পটুয়াখালী-৩ আসন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।


সব মিলিয়ে মাঠে সরাসরি প্রচারণা শুরু না হলেও পটুয়াখালী-৩ আসন ইতোমধ্যে নির্বাচনী উত্তাপে প্রবেশ করেছে। অনলাইন মাধ্যমেই এখন প্রার্থী ও সমর্থকেরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।