অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ধানমন্ডি ৩২ নিয়ে যে যত অনুভূতি থাকুক, তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক তিনি দেখেন না। সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, হাসিনা তার বাবাকে এমনভাবে সামনে আনতেন যে মানুষ শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবকেই দায়ী করত। ধানমন্ডি ৩২ অনেকের কাছে শেখ মুজিবের বাড়ি হিসেবে স্মৃতির জায়গা হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এর যোগ নেই।
শফিকুল আলম বলেন, শুধু প্যারেড করা বা আনুষ্ঠানিকতা মানলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা হয় না। বরং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা এবং বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা—এসবই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ দশক ধরে আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে আদালতের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা এখন সংশোধন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ চেয়েছিলেন, যেখানে নাগরিক হিসেবে সবার মর্যাদা থাকবে। গরীব হলেও নিজের পরিচয়ে গর্ব করার জায়গা থাকবে। এটাকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত মূল্যবোধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শফিকুল আরো বলেন, আগের সরকার মুক্তিযুদ্ধকে পরিবারের উত্তরাধিকারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাতে চাইত। শেখ পরিবারের নামে অসংখ্য ভবন, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৮৮৮টি স্থাপনায় নামকরণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মন্তব্য, এতে মনে হয়েছে যেন দেশটি কোনো পরিবারতন্ত্রের অধীনে চলছে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রজা হিসেবে ছিল আর শাসকের কাছে মাথা নত করে থাকতে হতো।





