আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেছেন একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম।


অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসান মামুনের সমর্থকরা ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ নিতে বাধ্য করছেন। পাশাপাশি হাসান মামুন নিজেও বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও প্রকাশ্য স্থানে উসকানিমূলক ও উত্তেজনাকর বক্তব্য দিচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে নির্বাচনী ফলাফল পূর্বনির্ধারিত বলে মন্তব্য করছেন।


রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসব অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন শহিদুল ইসলাম ফাহিম।


অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, পটুয়াখালী–৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গুরুতর হুমকি।


তিনি আরও দাবি করেন, হাসান মামুনের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মীয় শপথে বাধ্য করছেন। পাশাপাশি প্রার্থী নিজে বিভিন্ন সভা ও জনসমাবেশে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দিয়ে কে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ হবে তা আগেই ঘোষণা করছেন।


স্মারকলিপিতে তিনি চার দফা দাবি জানান। সেগুলো হলো—

১) অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ;
২) প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কীকরণ, প্রচার কার্যক্রম স্থগিত অথবা প্রার্থিতা বাতিল বা স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ;
৩) ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান;
৪) পটুয়াখালী–৩ আসনে ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।