চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নর্থ বেঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন দ্বীপ। ক্রিকেটের সঙ্গে তার পরিচয় খুব বেশি দিনের নয়—টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বলে হাতেখড়ি মাত্র এক বছর আগে। কিন্তু এই অল্প সময়েই নজর কেড়েছে জাতীয় পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের শুরুতেই যোগ দেবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ক্যাম্পে। গতবার এই ক্যাম্প হয়েছিল ২৯ ক্রিকেটার নিয়ে, এবার সেই তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে দ্বীপের নাম।

সংগ্রামী পরিবার, তবু ক্রিকেটে আলো

অভাবের সংসারে দ্বীপের ক্রিকেট খেলা যেন বিলাসিতাই। বাবা বাসচালক হলেও নানা অসুস্থতায় তার আয়ের পথ বন্ধ। স্বল্প কিছু জমিজমা বিক্রি করেই চলে সংসার। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে, এখন বাবা-মা আর দ্বীপকে নিয়েই ছোট্ট পরিবার। এমন কষ্টের ভেতর থেকেও বাঁহাতি পেসার দ্বীপ নিজের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

জাতীয় দলের তারকা মোস্তাফিজুর রহমানের মতো কাটার ও ইনসুইংয়ে পারদর্শী দ্বীপকে অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যত্ন নিলে এই কিশোর একদিন রত্ন হয়ে উঠতে পারে।

কোচদের নজরে দ্বীপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা পেসার নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের পথপ্রদর্শক কোচ আলমগীর কবিরের নজরেই আসে দ্বীপ। গেল বছর বিভাগীয় ক্যাম্পেও ডাক পেয়েছিল সে। এবার বিসিবির পাইলট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ইয়ং টাইগার চ্যালেঞ্জ ট্রফিতে তার বোলিং নজর কাড়ে মোহাম্মদ রফিক, মেহেরাব হোসেন অপি, জাভেদ ওমর বেলিম এবং হাসিবুল হোসেন শান্তদের। শান্ত তো স্পষ্টই বলেছেন—‘আমরা এমন একজন বাঁহাতি বোলারই খুঁজছিলাম।’

জাতীয় নারী দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত হলেও কোচ আলমগীর কবির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন দ্বীপের। তার মতে, “বাংলাদেশের দ্বিতীয় মোস্তাফিজ হতে পারে দ্বীপ। কাটার আছে, ইনসুইং আছে—কিন্তু সে একেবারে কাঁচা প্রতিভা। নিয়মিত যত্ন নিলে ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।”

ক্লাব ও অনুশীলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাইওনিয়ার্স ক্রিকেট ক্লাবে বিনা খরচে নিয়মিত অনুশীলন করছে দ্বীপ। তবে ক্লাবটি বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় খালার বাসায় থেকে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয় তাকে। পরিবারে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন তারাও দ্বীপকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

দ্বীপের স্বপ্ন

দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দ্বীপ বলেছে, “আমাদের এলাকার এক বড় ভাই প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট খেলেন। তার পরামর্শেই আমি টেপ টেনিস ছেড়ে ক্রিকেট বলে অনুশীলন শুরু করি। গত বছর বিভাগীয় ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলাম, বাদও পড়েছিলাম। তবে থামিনি। রাজশাহীতে এক ম্যাচে ৭ ওভার বল করে ১ উইকেট পাই। বাকি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে হয়নি। নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছি।”

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

অনূর্ধ্ব-১৭ ক্যাম্প নিয়ে দ্বীপের স্বপ্ন—“আমি কোথাও সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো। শান্ত স্যারসহ অনেকেই আমাকে সাহস দিয়েছেন।”