বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাসের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। দেশের টানে, মানুষের টানে এবং মায়ের টানে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক–এগারোর বছর দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরও দেশপ্রেমে একচুলও নড়েননি তিনি।
ঢাকামুখী জনস্রোত এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের উচ্ছ্বাস এ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব স্পষ্ট করছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের এই ফেরার দিনটি অনেকের কাছে ঐতিহাসিক।
বিএনপি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে সেনাসমর্থিত সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান এবং এক সপ্তাহ পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। প্রায় ১৭ বছর তিন মাস পর দেশে ফিরছেন তিনি।
দলীয় নেতাদের মতে, একটি বড় দল কেবল বড় সংস্থা নয়; দায়িত্বও বড়। বিএনপি জন্মেছিল রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা থেকে। ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়, মূল দর্শন ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব।
সম্প্রতি তারেক রহমান বারবার দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতার আচরণ কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে মিল না থাকা মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। সাধারণ মানুষ এখন শুধু ক্ষমতায় আসার অপেক্ষা করে না; তারা চাইছেন বিএনপি নিজের ভেতর থেকে শুদ্ধতার প্রক্রিয়া শুরু করুক।
মানুষের পাশে দাঁড়ানো তারেক রহমান বছরের পর বছর ধরে করে আসছেন। দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্তদের সহায়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ বহন করা, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ—এসব কার্যক্রম তিনি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন।





