দেশে প্রতিটি পরিবারের গড় মাসিক আয় বর্তমানে ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা। তবে আয়-বৈষম্য এখনো বড় বাস্তবতা। দেশের নিচের ১০ শতাংশ পরিবারের আয় মাত্র ৮ হাজার ৪৭৭ টাকা, আর ওপরের ১০ শতাংশের আয় দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৩৯০ টাকায়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর এলজিইডি ভবনে ‘২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও এর প্রবণতা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ছে

গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ আয় অপেক্ষা বেশি ব্যয় করছে, ফলে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে এই শ্রেণির মানুষ। কর্মসংস্থানের দিক থেকেও চিত্র উদ্বেগজনক—সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা কাজ করেন এমন মানুষের সংখ্যা ৫২.৩৩ শতাংশ, আর পুরো সময় (৪০ ঘণ্টা) কাজ করেন মাত্র ২৮.১ শতাংশ।

চিকিৎসা ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসা ব্যয়। বিশেষ করে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা অনেকের সাধ্যের বাইরে।” তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে এক সাংবাদিক আত্মহত্যা করেছেন, যার পেছনে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে না পারার বিষয়টিও ছিল।”

তিনি জানান, এই বৈষম্য ও ব্যয়চাপ দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সামাজিক অস্থিরতাও বাড়াতে পারে।

 গবেষণার মূল তথ্যগুলো এক নজরে:

গড় মাসিক আয়: ৩২,৬৮৫ টাকা

 নিম্ন ১০% আয়: ৮,৪৭৭ টাকা

 উচ্চ ১০% আয়: ১,০৯,৩৯০ টাকা

 আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: মধ্য ও নিম্ন আয়ের শ্রেণিতে

 পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান: মাত্র ২৮.১%

 চিকিৎসা ব্যয়: উল্লেখযোগ্য সমস্যা

গবেষকরা মনে করেন, আয় বৈষম্য হ্রাসে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।