হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (হাকসু) নির্বাচন এবং এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের দাবিতে অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।
রোববার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই অনশন শুরু করেন কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এ.টি.এম. ছিফাতুল্লাহ এবং ফিন্যান্স বিভাগের ২২ ব্যাচের আহম্মদ মুহিত।
অনশনকারীদের ২ দফা দাবি, হাকসু (হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ) নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ, এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের জন্য রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম চালু করা।
ছাত্রদের অভিযোগ, প্রতিবছর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় ছাত্রসংসদের নামে ফি নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ গঠন করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে দীর্ঘদিনের অনীহা।
এ বিষয়ে অনশনরত শিক্ষার্থী এ.টি.এম. ছিফাতুল্লাহ বলেন, \"ছাত্রসংসদের নামে আমরা নিয়মিত টাকা দিচ্ছি, অথচ সেই সংগঠনটাই নেই। এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা। আমরা হাকসুর রোডম্যাপ চাই এবং চাই এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন যেনো রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দ্রুত গঠিত হয়।\"
দ্বিতীয় অনশনকারী আহম্মদ মুহিত বলেন, \"প্রশাসনের কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা কর্ণপাত করেননি। আমাদের এই অনশন শান্তিপূর্ণ এবং যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।\"
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, \"আমরা দাবিগুলো শুনেছি। বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি।\"
উল্লেখ্য, দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন এর তফসিল ও নির্বাচন এর তারিখ ঘোষণা হলেও হাবিপ্রবিতে তা অনুপস্থিত। এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের ব্যাপারেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, তাদের এই শান্তিপূর্ণ অনশন প্রশাসনকে সচেতন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





