ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে টিএসসি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামি। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযোগ ও হয়রানির মুখোমুখি হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দায়িত্ব পালনের পেছনের বাস্তবতা, নিজের অবস্থান ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমি গত আগস্টে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিই শুধুমাত্র একটি কারণে—আমি চাই আমার প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে (আলমা মেটার) কিছু ভালো অবদান রাখতে। আমি প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এখানে আসিনি। আমি শুধু একজন শিক্ষক হতে চেয়েছি। কিন্তু আজ, আমি নিজ ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনে অভিযোগের শিকার, হয়রানির শিকার।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমি কি কখনো পক্ষপাতদুষ্ট ছিলাম? কখনো কি তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় জিজ্ঞেস করেছি? আমি কি সর্বোচ্চ চেষ্টা করিনি তোমাদের সাহায্য করার? তাহলে আজ এই অভিযোগগুলো কেন?”

মোনামি দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন। “আমি দায়িত্ব পালন করেছি একজন নিরাপত্তা ইনচার্জ হিসেবে। অথচ আজ আমাকে ভুল অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীরা বারবার নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ করছিলেন—তাদের দায়িত্ব কি ছিল না তা জানা? আমি আমার নির্দেশনায় কঠোর ছিলাম, কারণ দায়িত্বে ছিলাম, এবং এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই।”

দায়িত্ব পালনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। “২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, ১৪ জুলাইয়ের কনসার্ট, ৫ আগস্টের অনুষ্ঠান—সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমার উপর ভরসা রেখেই এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ আমাকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা হলো। এমনকি একজন সহকর্মীকেও অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়েছে, শুধু তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। আমাকে মাত্র এক ঘণ্টা আগে প্রক্টর অফিসে ফিরে যেতে হয়—কারণ বলা হয়েছিল, আমি ঝুঁকিতে আছি। আমার উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। আমার দায়িত্ব অসমাপ্ত থেকে গেল।”

স্ট্যাটাসের শেষভাগে তিনি লেখেন, “আমি কাউকে ভয় করি না—না ছাত্রলীগকে, না অন্য কাউকে। কারণ সত্য আমার পাশে। তবু আমি চুপচাপ ফিরে এসেছি, কারণ চাইনি আমার কারণে নির্বাচন ব্যাহত হোক। কিন্তু এই কষ্ট আমি কোনোদিন ভুলব না।”