বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয়তা থামছে না। শীতকালীন ছুটি ও হলভিত্তিক ভোটার তালিকায় অসংগতির কারণে তৃতীয় দফায় তপশিল স্থগিত ও পুনঃতপশিল ঘোষণা করা হয়। এর পরদিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. শাহজামান পদত্যাগ করেছেন।


রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন উর রশিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রশাসনের প্রদত্ত তথ্যের ওপর তিনবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হয়েছে এবং দুইবার তপশিল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রহসনের ঘটনা ঘটেছে।


তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের তারিখ, ডোপ টেস্ট এবং শীতকালীন ছুটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দ্বন্দ্ব ও কমিশনের প্রতি অশালীন আচরণ তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বাধা দিয়েছে। এসব কারণে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।


এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন নানা নাটকীয়তার পর ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ভোটের নতুন তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে পুনঃতপশিল ঘোষণা করে।


স্মরণযোগ্য, ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বিধিমালা’ পাসের পর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬তম সিন্ডিকেট সভায় ছয় সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। প্রথম প্রধান কমিশনার ড. ফেরদৌস রহমান কয়েক ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করলে ১১ নভেম্বর ১১৭তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ড. শাহজামানকে প্রধান করে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। ২৫ নভেম্বর তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন, যা গ্রহণ না করে ৩০ নভেম্বর থেকে পুনরায় দায়িত্ব নেন।


নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ১৮ নভেম্বর ভোটের তপশিল ঘোষণা করে ২৯ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেন। সংগঠনগুলোর আপত্তি ও দাবিতে নতুন তপশিল প্রকাশ করে ভোটের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর করা হয়। তবে মনোনয়ন বিতরণের শেষ দিনে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দেখিয়ে তপশিল স্থগিত করা হয়। ৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে পুনঃতপশিল ঘোষণা করা হয়।


৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নির্বাচনি কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে ভোটাররা কোনোরকম সহায়তা পাননি। কমিশন কার্যালয়ের দরজায় ‘মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন’ লেখা পোস্টার সাঁটিয়ে অবস্থান করে প্রার্থীরা।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, বুধবার ক্যাম্পাসে শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বানচালের অভিযোগ এনে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেয়। পরে কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠক করেন এবং ভোটের নতুন তারিখ ও পুনঃতপশিল ঘোষণা করা হয়।