ওয়ান ইলেভেন-এর সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে অমানবিক নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে সে সময়ের সরকার। এরপর তার দুই ভাই দেশেল বাইরে যান চিকিৎসা নিতে। এই যাওয়ার সময়ের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের বিদেশে যেতে দেন। তারেক জিয়া লন্ডনে এবং আরাফাত রহমান কোকো অন্য দেশে চলে যান। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেন।
\r\nকিন্তু এখনো তারেক রহমান লন্ডনে আছেন। বর্তমানে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশে এবং বিদেশে এই ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই তারুণ্যের অহংকার, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে বাধা দিতে পারবে না। কেউ এটা চেষ্টা করলে বিএনপি উপযুক্ত জবাব দেবে বলে সোমবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের মতিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে কর্মী সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এই কথাগুলো বলেন।
\r\nতিনি বলেন, দুই একদিনের মধ্যেই নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা হবে। এই নির্বাচনে কিভাবে কাজ করবেন, কেন্দ্র কিভাবে পাহারা দেবেন এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারে সে বিষয়ে করণীয় বিষয় নিয়ে এই কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হলো। সব কিছুই চলছে। কিন্তু মনের মধ্যে একটা অশান্তি রয়েই গেছে। কারণ গণতন্ত্রের মানসকন্যা, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তবে বর্তমানে দেশ-বিদেশের মানুষের দোয়ায় তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি তথা দেশবাসীর মনে স্বস্তি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
\r\nমিলন আরও বলেন, দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মানুষের দোয়ায় তিনি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শত্রুও তাঁর জন্য দোয়া করছেন। প্রতিটি ঘরে ঘরে মা-বোনেরা নামাজ আদায় করে দোয়া করছেন। সরকারিভাবে গত শুক্রবারে দেশের প্রতিটি মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে। সেইসাথে অন্য ধর্মের জনগণও তাদের সুবিধামত প্রার্থনা করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিজে বলেছেন দেশের এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্রের মানসকন্যার সুস্থ হওয়াটা জরুরি। এছাড়া বিএনপির চিরশত্রু আওয়ামী লীগ সমর্থিত রাষ্ট্রপতিও একই কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।
\r\nতিনি বলেন, এই দেশের জন্য বেগম জিয়ার মত ত্যাগ আর কেউ করেনি। তিনি অল্প বয়সে স্বামী হারিয়েছেন। হারিয়েছেন আদরের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে। তিনি টানা নয় বছর আন্দোলন করে স্বৈরাচার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে অপসারণ করেছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য এখনো তিনি আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তিনি দেশবাসীর জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ সকল ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে তিনি এখন বিশ্ব নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।
\r\nমিলন বলেন, বেগম জিয়া শুধু নারী জাগরণের নেত্রী নন, তিনি সবার জন্য কাজ করেছেন। তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। এছাড়াও নারী শিক্ষা অবৈতনিক করে নারীদের এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। নারীরা এখন সর্বক্ষেত্রে চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও তিনি আলেম-ওলামাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। পতিত সরকারের আমলে আলেমদের উপরে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেইসাথে তাদের উপরে জঙ্গি তকমা লাগানোরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছিলেন। এজন্য আলেম সমাজ তাঁর এই সময়ে সবাই দোয়া করছেন। তারাও বেগম জিয়ার জন্য চোখের পানি ফেলছেন।
\r\nতিনি বলেন, ধানের শীষ হচ্ছে বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও পুরো দেশবাসীর প্রতিক। এই প্রতিকের মূল্যায়ন করতে হবে। ঘরে ঘরে ধানের শীষের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। মোনাফেকদের থেকে জনগণকে দূরে থাকতে হবে। কারণ এই মোনাফেকরা ইসলামের দোহাই দিয়ে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। অথচ তারা এখন জামায়াতে ইসলামীকে অমুসলিম শাখা করেছে। শুধু তাই নয়, জামায়াত খুলনায়-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী নামে একজন হিন্দুকে নমিনেশন দিয়েছে। ইসলামী দল বলে দাবীদার কোনো দল এমন ন্যাক্কার ঘটনা করতে পারে না। তারা ইসলামের অবমাননা করেছে। এ থেকে স্পষ্ট জামায়াতে ইসলামী কোনভাবে ইসলামী দল বলে দাবি করতে পারে না। তারা ক্ষমতা চায়। এই দেশদোহী ও মোনাফেকী দল থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
\r\nবেগম জিয়া এখন ভিভিআইপি মর্যাদা পাচ্ছেন এবং এসএসএফ সুরক্ষার আওতায় এসেছেন। যারা অতীতে বেগম জিয়াকে নিয়ে কটূক্তি ও নির্যাতন করেছিল, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আজ তারা নীরব এবং বেগম জিয়া নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোসহ দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
\r\nজাহানাবাদ ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওরঙ্গজেব ভুট্টুর সভাপতিত্বে এবং ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সরদার-এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক-১ বাচ্চু রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক-২ শাহিন আক্তার শামসুজ্জোহা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো ও মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন।
\r\nআরও উপস্থিত ছিলেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান শাহ, সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দীন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন দিলদারসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।





