ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় পর্যন্ত প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুরপাল্লার শত শত যানবাহন আটকে যায়, ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
সকালে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। একই সময়ে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও সুয়াদী পাম্প এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আলগী হামিরদী ইউনিয়নের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, স্থানীয় প্রশাসন গত শুক্রবার ৩ দিনের সময় চেয়েছিল সমাধানের আশ্বাস দিয়ে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় আবারও তারা অবরোধে নেমেছেন। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল বলেন, হাইওয়ের চারটি পয়েন্টে অবরোধ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত শুক্রবারও একই দাবিতে প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করেছিল স্থানীয়রা। সেদিন প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও, দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নেমেছে তারা।





