জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাবাহিনীর মন্তব্য করার কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই। তিনি সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

\r\n

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর: মৌলিক সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

\r\n

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সেনাপ্রধান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু এটি বলার এখতিয়ার সেনাবাহিনীর নেই। আমরা সেনাবাহিনীকে সম্মান করি, কিন্তু তাদের রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা থাকতে হবে।”

\r\n

তিনি বলেন, “আমাদের তিনটি মূল নীতি—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। এই মূল্যবোধগুলোকে উপেক্ষা করে যদি নির্বাচন হয়, তা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”

\r\n

পাটওয়ারী আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে বহু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। এনবিআর, সচিবালয়, এমনকি বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো আজও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হয়ে আছে।”

\r\n

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই সিস্টেম পরিবর্তন না হয়, তাহলে শেখ হাসিনার চেয়েও বড় স্বৈরাচার আসার জন্য জাতিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

\r\n

নাসীরুদ্দীন অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রণীত বিতর্কিত আইন অনুসারে পাঁচজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি, বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও দলীয় সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।”

\r\n

তিনি নির্বাচন ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের মৌলিক সংস্কার ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।”